
গৌরীশংকর মহাপাত্র: দৈনিক আবেশভূমি: মেদিনীপুর পূর্ব পশ্চিম।অখন্ড মেদিনীপুর অধুনা পূর্ব মেদিনীপুর জেলার শতবর্ষের গৌরবোজ্জ্বল সমবায় ব্যাঙ্ক মুগবেড়িয়া সেন্ট্রাল কো-অপারেটিভের শতবর্ষ পূর্তি অনুষ্ঠানের শুভ সূচনা হয় বুধবার।সকালে হেঁড়িয়া স্কুল মাঠে প্রতি শাখা থেকে আসা বাইক র্যালির সূচনা করেন রাজ্যের কারামন্ত্রী অখিল গিরি, সঙ্গে ব্যাংকের স্পেশাল অফিসার অর্ধেন্দু মাইতি, জেলা পরিষদ সদস্য বিমান নায়ক, পঞ্চায়েত সমিতির সহ-সভাপতি শংকর বাগ প্রমুখ। দুপুরে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয় মুগবেড়িয়া থেকে মাধাখালি সান্ধ্য শাখা ঘুরে অনুষ্ঠান মঞ্চ পর্যন্ত সাঁওতালি নৃত্য, রণপা, মহিলা ব্যান্ড, মাস্কেট সহ সুদৃশ্য ট্যাবলো সহযোগছ রোড শো এলাকা পরিক্রমা করে। পরে শতবর্ষ ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন নাবার্ডের চীপ জেনারেল ম্যানেজার শ্রীমতি উমার রমেশ।বৈকালিক অনুষ্ঠান মঞ্চে উপস্থিত কারা মন্ত্রী অখিল গিরি, প্রতিষ্ঠাতা পরিবারের উত্তরসুরী প্রাক্তন সাংসদ ও রাজ্যের মৎস্য মন্ত্রী কিরণময় নন্দ, প্রতিষ্ঠাতা পরিবারের অন্য দুই কৃতি প্রাক্তন বিধায়ক অধ্যাপক ব্রহ্মময় নন্দ ও প্রবন্ধিক চৈতন্যময় নন্দ, আঞ্চলিক ইতিহাস গবেষক সাহিত্যিক মন্মথ নাথ দাস, এ আর সি এস অফিসের তিন সি ডি ও অমিয়কান্তি হোতা, তপন কুমার সামন্ত ও শংকর প্রধান, জেলা পরিষদ সদস্য অনুরাধা নন্দ গোস্বামী, জেলা পরিষদের পূর্ত কর্মাধ্যক্ষ স্বপন দাস, তমলুক ঘাটাল সেন্ট্রাল কো-অপারেটিভ ব্যাংকের চেয়ারম্যান গোপাল মাইতি, মুগবেড়িয়া কলেজের অধ্যক্ষ স্বপন কুমার মিশ্র, কাঁথি কো অপারেটিভ ইউনিয়নের সম্পাদক তথা কাঁথি পৌরসভার প্রাক্তন পৌর প্রশাসক হরিসাধন দাস অধিকারী প্রমুখ।স্বগত ভাষণে ব্যাংকের জেনারেল ম্যানেজার ও শতবর্ষ উদযাপন কমিটির সম্পাদক সুজয় বসু ব্যাঙ্কের গৌরবময় শত বর্ষের স্মৃতিচারণ করে এই অনুষ্ঠান এর সাফল্য ও ব্যাঙ্কের শ্রী বৃদ্ধিতে সকলের সহযোগিতা কামনা করেন।সভার সভাপতি ব্যাংকের স্পেশাল অফিসার তথা শতবর্ষ উদযাপন কমিটির সভাপতি প্রাক্তন বিধায়ক অর্ধেন্দু মাইতি তাঁর বক্তব্যে এক সপ্তাহের মধ্যে ব্যাঙ্কের সমস্ত শাখায় মোবাইল ব্যাঙ্কি পরিষেবা যেমন চালু, শতবর্ষ উপলক্ষে স্মারক কর্মসূচি হিসেবে বাড়তি সুদযুক্ত একটি বিশেষ ফিক্সড ডিপোজিট চালু করার কথা ঘোষণা করেন। জেলার লিড ডিস্ট্রিক্ট ম্যানেজার সুদীপ মাইতি তাঁর বক্তব্যে বলেন- একশত বছর ধরে একটি ব্যাংকের কাজই হলো সততার সঙ্গে, বিশ্বাসের সঙ্গে গ্রাহকদের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখে পরিষেবা দেওয়া। সেক্ষেত্রে মুগবেড়িয়া ব্যাঙ্ক সেই দৃষ্টান্তকে পুঁজি করে মাথা উঁচু রেখে শাখা প্রশাখা ছড়িয়ে দিতে পেরেছে। সূচনা পর্ব থেকে শতবর্ষের কর্মকাণ্ডের উল্লেখ করে আগামী দিনে কর্মসূচীর কথা বলেন।স্কুল মাঠে পতাকা উত্তোলন করেন প্রতিষ্ঠাতা পরিবারের যোগ্য উত্তরাধিকার প্রাক্তন বাগ্মী সংসদ ও রাজ্যের প্রাক্তন মৎস্য মন্ত্রী কিরণময় নন্দ। তিনি তার বক্তব্যে বলেন” শত বর্ষ আগে মুগবেড়িয়ার মতন একটি অত্যন্ত গ্রামে ব্যাঙ্ক স্থাপন করার কথা ভাবতে পেরেছিলেন দানবীর রায় সাহেব গঙ্গাধর নন্দ। যারা শতাধিক বছর পরের অবস্থা অনুমান করতে পেরে সমাজের কাজ করে যেতে পারেন তারাই আমাদের কাছে মহাপুরুষ ।” সেই দানবীর রায় সাহেব গঙ্গাধর নন্দের প্রতিষ্ঠিত ব্যাঙ্ক আজকের মুগবেড়িয়ি সেন্ট্রাল কো-অপারেটিভ ব্যাংক যা আজ একশত বছরে পা দিল। ১৯২৪ সালের পয়লা ফেব্রুয়ারি এই ব্যাংকের পথচলা শুরু হয়েছিল বলে স্মৃতিচারণে উপস্থিত সকলকে তৎকালীন সমাজ ব্যবস্থা সম্পর্কে অবহিত করে সমৃদ্ধ করেন। সমগ্র অনুষ্ঠানের সঞ্চালনায় এজিএম শংকর প্রসাদ নন্দ। উপস্থিত সকলকে ধন্যবাদ জানান ব্যাংকের জেনারেল মেনেজার সুজয় বসু।
