
গৌরীশংকর মহাপাত্র:দৈনিক আবেশভূমি: মেদিনীপুর পূর্ব পশ্চিম।দীর্ঘ ৩৫ বছর নিরলস শিক্ষা,জ্ঞান ও সৃজনশীল চেতনা বিকাশের বিরল নজির স্থাপন করে ধান্দালীবাড় উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে অবসর গ্রহণ করলেন বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকা শ্রীমতি রীনা দাস।১৯৮৮ সাল থেকে ২০২৩ – এই সুদীর্ঘ কর্ম পথে তিনি একের পর এক নজির স্থাপন করে গেছেন । পটাশপুর-২এর মথুরা পঞ্চায়েতের প্রত্যন্ত সারদাবাড় থেকে কাঁথি-৩এর দেবেন্দ্র পঞ্চায়েতের প্রান্তিক জনপদ ধান্দালীবাড় উচ্চ বিদ্যালয়ের ভূগোল বিভাগের শিক্ষিকা হিসেবে যোগদান করলেও পরবর্তীতে তিনি ইতিহাস ও বাংলা বিষয়ে এম এ পাশ করেন এবং ইতিহাস বিষয়ের শিক্ষিকা হন। শিক্ষকতার পাশাপাশি বরাবর স্পষ্ট ভাষী সুবক্তা সমবায় সম্পর্কে বোদ্বা কন্টাই মহিলা কো অপারেটিভের বর্তমান চেয়ারম্যান এই শিক্ষিকা স্থানীয় পত্র পত্রিকায় নিয়মিত লেখা লেখি ও করতেন। অকৃতদ্বার এই শিক্ষিকা বিদ্যালয়কে নিজের ধ্যান জ্ঞান ভেবে সকাল সন্ধ্যা শুধুমাত্র পঠন পাঠনের সীমান্তে নিজেকে আটকে না রেখে, বিদ্যালয় ও পার্শ্ববর্তী এলাকায় একটি সুন্দর সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডল গড়ে তুলেছিলেন ছাএ-ছাত্রী, অভিভাবক অভিভাবিকাবৃন্দের সাহায্য নিয়ে। দক্ষতার গুণে একাধিক মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকার নিয়োগের সুযোগ পেলেও কেবল ছাত্র ছাত্রীদের আব্দার উপেক্ষা করে নিজের স্কুল বাল্যগোবিন্দপুর বালিকার প্রধান শিক্ষিকা হিসেবে যোগ দিতে পারেন নি। ফলে বিনা বাধায় ২০১৭ তিনি বিদ্যালয়ে সহকারী প্রধান শিক্ষক হন ২০১৮ তে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকা হিসেবে শেষ কয়েক বছরে তিনি বিদ্যালয়কে একটি সাংস্কৃতিক মঞ্চ ‘শরণ্যা’ উপহার দেন। সেই সঙ্গে অবসরের কয়েক মাস আগে গত জানুয়ারি মাসে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে মহাপুরুষ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর,স্বামী বিবেকানন্দ ও বিদ্যাসাগর – এর আবক্ষ মূর্তি স্থাপন করেন নিজ অর্থ ব্যয় করে। বিদ্যালয় প্রাঙ্গণকে নানা রকম বাগানের গাছ ও ফুলের সাজে সজ্জিত করেন। বিদ্যালয়ের ছাত্র ছাত্রীদের চরিত্র গঠনের জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করে যান অবসরের দিন পর্যন্ত।

