
গৌরীশংকর মহাপাত্র, আবেশভূমি ডিজিটাল, এগরা কাঁথি, মেদিনীপুর পূর্ব পশ্চিম ও ঝাড়গ্ৰাম। মাত্র ১০ মিনিটের ঝড় আর শিলাবৃষ্টিতে লণ্ডভণ্ড পশ্চিম মেদিনীপুরের দাঁতন (১ ও ২ নং ব্লক) ও মোহনপুরের বিস্তীর্ণ এলাকা। ধান, তিল, বাদাম-সহ প্রচুর ফসলের ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি কৃষকদের। শুক্রবার বিকেলের শিলাবৃষ্টিতে বিঘার পর বিঘা বোরো ধান, বাদাম, তিল, পান নষ্ট হয়েছে দাঁতন ১, দাঁতন ২ ও মোহনপুর ব্লকে। ঋণ মুকুবের আর্জি জানিয়েছেন কৃষকরা।
প্রশাসন সূত্রে খবর, তিনটি ব্লকের ৭টি গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় শিলাবৃষ্টির ফলে বেশিরভাগ ধানের শিস ভেঙে গিয়েছে। ফলে আগড়া আর নাড়া ছাড়া আর কিছুই মিলবে কি না সন্দেহ। এছাড়াও, তিল ও বাদামেরও ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। ঝড়ে বেশ কিছু জায়গায় গাছ পড়েছে, বিদ্যুতের খুঁটি ভেঙেছে। পাশাপাশি শিলাবৃষ্টি ও ঝড়ের দাপটে কাঁচা বাড়ির ও ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ জানতে বুধবার মহকুমা শাসক, ব্লক প্রশাসন, কৃষি দফতরের পাশাপাশি দাঁতনের বন ও ভূমি কর্মাধ্যক্ষ ইফতেকার আলিও এলাকা পরিদর্শন করেন।
উল্লেখ্য, গত সোমবার ঝড় ও শিলাবৃষ্টির তাণ্ডবে কেশিয়াড়ি, নারায়ণগড়, খড়্গপুর-১ ও সবং ব্লকে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছিল। সেই ঝড়বৃষ্টির পর ফের শুক্রবার সন্ধ্যায় ঝড়ের সঙ্গে প্রবল শিলাবৃষ্টি হয় মূলত দাঁতন ও মোহনপুরে। দাঁতন ১নং ব্লকের চকইসমাইলপুর, আঙ্গুয়া, আনিকোলা; দাঁতন-২ ব্লকের জেনকাপুর এবং মোহনপুর ব্লকের মোহনপুর, সাউটিয়া গ্রাম পঞ্চায়েতে ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।দাঁতন ২ পঞ্চায়েত সমিতির বন ও ভূমি কর্মাধ্যক্ষ সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে বলেন, ‘শনিবার সকাল থেকেই আমি গ্রামে গ্রামে ও মাঠে মাঠে ঘুরেছি। এমন ভয়ঙ্কর ক্ষতি আগে দেখিনি। প্রশাসনের কাছে আবেদন জানিয়েছি, ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের পাশে দাঁড়ানোর জন্য। চাষিরা যাতে আবার ঘুরে দাঁড়াতে পারেন, সেই ব্যবস্থা করতে হবে। মুখ্যমন্ত্রী ফিরলে বিষয়টি জানানো হবে।’ দাঁতন ২ ব্লকের বিডিও অভিরুপ ভট্টাচার্য বলেন, ‘শুক্রবার রাত থেকেই এলাকায় এলাকায় ঘুরছি। ঝড়ের থেকে শিলাবৃষ্টিতে বেশি ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ত্রিপল ও প্রাণ সামগ্রী পৌঁছে দিয়েছি।’ প্রশাসনের তরফে যথাযোগ্য ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে দাবি করেন বিডিও।
