গৌরীশঙ্কর মহাপাত্র ও রাজকুমার ম,হাপাত্র,আবেশভূমি ডিজিটাল:রাজ‍্যোর বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীরগড় পূর্ব মেদিনীপুরের একের এক সমবায় নির্বাচনে গেরুয়া শিবিরকে পর্যূদস্ত করে উল্লেখিত ঘাসফুল শিবির। মঙ্গলবার খেজুরী-২ ব্লকের হলুদবাড়ি অঞ্চলের কেশবচক সমবায় সমিতির নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসের ৯জন প্রার্থী হাড্ডাহাড্ডি লড়াই তে বিজেপির প্রার্থীদেরকে হারিয়ে সব আসনে জয়লাভ করে। এগরা ১ ব্লকের বরিদা পঞ্চায়েতের খালিনা সমবায় কৃষি উন্নয়ন সমিতি এবং পটাশপুর-২ ব্লকের আড়গোয়াল পঞ্চায়েতের সন্দলপুর সমবায়ে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ী তৃণমূল

    সমর্থীরা। খেজুরীর কেশবচকে খাতা খুলতে ব‍্যার্থ বিজেপি। প্রসঙ্গত এই সমবায় এলাকার গ্ৰাম পঞ্চায়েত ,পঞ্চায়েত সমিতি ,বিধাসভা এবং লোকসভা বিজেপি দখলে।জয়ীপ্রার্থী দের প্রাপ্ত সর্বাধিক ভোট ৩১৯, প্রতিপক্ষ বিজেপির প্রাপ্ত সর্বাধিক ভোট ২১৫। সেক্ষেত্রে এই জায়গায় তৃণমূলের জয় অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।সমিতির নির্বাচনক্ষেত্র কেশবচক, হলুদবাড়ি, জগন্নাথচক ও নরসুল্লাচক। মোট ভোটার ৫৮২, সকলেই ভোট দান ক
      রেন।
      জয়ীরা দেবাদ‍্যুটি গিরি, নন্দন জানা, সঞ্জয় কুমার পণ্ডিত, সহদেব দাস, স্বপন কুমার শীট, শুভাশিস গুছাইৎ, অনিল মান্না, মহিলা সংরক্ষিত ২ আসনে পুষ্পিতা বারিক ও ঊষা সামন্ত।পঞ্চায়েত ভোট জয়লাভের পর বিজেপি গোটা এলাকায় সন্ত্রাসের পরিবেশ তৈরি করেছিল তাই জনগণ শান্তির পক্ষে ও মমতা ব্যানার্জির উন্নয়নের পক্ষে ভোট দিয়ে বিপুলভাবে জয়যুক্ত করল এমন দাবি শিক্ষক ও ব্লক তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি সমুদ্ভব দাশের। এই জয়ে এলাকার জনগণ, সমবায়ের ভোটার ও তৃণমূল কংগ্রেসের কর্মীদের আন্তরিক শুভেচ্ছা জানান। আগামী দিনে সবাইকে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখার জন্য আহ্বান জানান।নেতৃত্বদের মধ্যে ছিলেন প্রাক্তন বিধায়ক রনজিৎ মন্ডল জেলা পরিষদের সদস্য রামকৃষ্ণ দাস, অঞ্চল সভাপতি আলাপন দাস, প্রাক্তন প্রধান তাপস কুমার প্রামাণিক, সুবীর মন্ডল ও বিবেক মন্ডল সহ ব্লগ ও অঞ্চলের নির্বাচিত প্রতিনিধি ও নেতৃত্ব গন।
        পটাশপুর-২ ব্লকের সন্দলপুর সমিতিতে জয়ীরা হলেন বিবেকানন্দ শাসমল, অজয় কুমার মান্না, শুকদেব পয়ড়‍্যা, পবন দাস, কানাইলাল গিরি, বিনোদবিহারী জানা, এস সি সংরক্ষিত আসনে মিলন শীট, এবং মহিলা সংরক্ষিত দুই আসনে কণিকা গিরি ও যমুনা গিরি। সমিতির মোট ভোটার ৫৮২।নির্বাচনক্ষেত্র সন্দলপুর পূর্ব ,উত্তর ও দক্ষিণ, বাবুই দাঁড়ি দক্ষিণ, সমসপুর দক্ষিণ ও রাঙ্গামাটি। জয়ীদের ফুলের মালা পরিয়ে শুভেচ্ছা
          জানান কাঁথি সাংগঠনিক জেলা তৃণমূল কংগ্রেস এর মুখপাত্র অপরেশ সাঁতরা,আড়গোয়াল পঞ্চায়েত প্রধান মালেক আলি, আড়গোয়াল অঞ্চল তৃণমূল সভাপতি সৌমেন্দু সামন্ত, পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি স্বপন কুমার মাইতি, জেলা পরিষদ সদস্য গোলকেশ নন্দ গোস্বামী, ব্লকতৃণমূল সভাপতি মানস রায়।প্রসঙ্গত এই সমবায় এলাকার বিধায়ক ও সাংসদ বিজেপির।
          মঙ্গলবার মনোনয়ন জমা দেওয়ার দিনে কোনও বিরোধী প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা না দেওয়ায় বরিদা পঞ্চায়েতের খালিনা সমবায়।তৃণমূল সমর্থীরা বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ী হয়।।প্রসঙ্গত, গত গত কয়েকদিন আগে এগরা ১ ব্লকের পুরুন্দা সমবায় সমিতির নির্বাচনেও বিনা
            প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জিতেছিল শাসক তৃণমূল। এবারেও সেই তাঁর পুনরাবৃত্তি হলো। বিরোধীরা কোথাও প্রার্থী দিতে পারেনি। কোথাওবা নির্বাচনে একক সংখ্যা গরিষ্ঠ পেয়ে জিতছে শাসক দল তৃণমূল। বরিদা সমবায় সমিতিতে মোট ভোটার ৮৩২। আসন ৯টি। জয়ীরা হলেন সিদ্ধেশ্বর বেরা, স্বপন কুমার মাইতি, গদাধর দাস অধিকারী, অনিল নন্দী, স্বপন কুমার মান্না, চৈতন্য প্রধান, দুই মহিলা সংরক্ষিত ২ আসনে গীতা রানী মাইতি ও বর্ণালী জানা এবং এস সি সংরক্ষিত আসনে শান্তনু শীট। স্বাভাবিকভাবে জয়ের পর বিজয় উল্লাসে মাততে দেখা গেলো তৃণমূলকে।একে অপরকে সবুজ আবির মাখিয়ে উল্লাস করতে দেখা গেলো তৃণমূল কর্মীদের। তৃণমূল
              কংগ্রেসের বরিদা অঞ্চল সভাপতি তথা এই সমবায় সমিতির প্রার্থী সিদ্বেশ্বর বেরা বলেন, এই জয় মা মাটি মানুষের জয়। এই জয় আমরা দলনেত্রী মমতা ব্যানার্জীকে উৎসর্গ করছি। ছিলেন জেলা পরিদদের সদস্য শান্তনু নায়ক। এই তিন সমিতির নির্বাচনে জয়ী ও ভোটারদের ভার্চুয়ালী অভিনন্দন জানান কাঁথি সাংগঠনিক জেলা তৃণমূল সভাপতি পীযূষ কান্তি পন্ডা, চেয়ারম্যান বিধায়ক তরুণ কুমার মাইতি ও সভাধিপতি বিধায়ক উত্তম বারিক। সামনে ২৬ সের বিধানসভা নির্বাচনের আগে এই জয় শাসক দলকে বাড়তি অক্সিজেন যোগাবে বলে দাবী রাজনৈতিক মহলের।স্থানীয় ব্লক বিজেপির সাধারণ সম্পাদক শক্তিপদ সাহু বলেন, গতকাল মননয়নের শেষ তারিখ ছিল, তাঁর আগের দিন আমাদের ভোটারদের নোটিস সার্ভ করা হয়েছে। রাতের অন্ধকারে নির্বাচন করাচ্ছে শাসকদল। তৃণমূল কংগ্রেস গণতন্ত্র মানেনা। এরা গণতন্ত্রের বিরোধী। এই সোসাইটি দীর্ঘদিন বন্ধ ছিল। এই সোসাইটির ক্যাশিয়ার আর্থিক তছরূপে মারা গেছে। আর্থিক তছরূপের কারণে এই সোসাইটি জর্জরিত তাই আমরা মনোনয়ন দেইনি। সামনেই রয়েছে এই এলাকার বরিদা সমবায় সমিতির নির্বাচন। সেই নির্বাচনে এখানকার তৃণমূল নেতৃত্ব সিদ্বেশ্বর বেরাকে ওপেন চ্যালেঞ্জ করছি, ক্ষমতা থাকলে নির্বাচনে জয়লাভ করে দেখাক। কটাক্ষ বিজেপির এই দাপুটে নেতার।

              Share

              Leave a Reply

              Your email address will not be published. Required fields are marked *