গৌরীশঙ্কর মহাপাত্র,আবেশভূমি ডিজিটাল :

বৃহস্পতিবার না ফেরার দেশে পাড়ি দিলেন বহু জনপ্রিয় গ্ৰন্থ প্রণেতা প্রফুল্ল রায় (৯১)। বার্ধক্যজনিত দীর্ঘ রোগভোগের পর কোলকাতার এক বেসরকারি নার্সিং হোমে ১৯ জুন বৃহস্পতিবার বিকেলে পরিবার ও প্রিয়জনদের সব চেষ্টা ব‍্যার্থ করে চির ঘুমের দেশে পাড়ি দেন। তাঁর উল্লেখযোগ্য উপন্যাস “কেয়াপাতার নৌকো” ও “মন্দ মেয়ের উপাখ্যান”। সাহিত্যে বিশেষ অবদানের জন্য তিনি পেয়েছেন বেশ কিছু পুরস্কার ও।অনন্তের দিকে ভেসে গেল তার “কেয়াপাতার নৌকো’।বাংলাদেশের ঢাকায় জেলায় বিক্রমপুরের আটপাড়া গ্রামে১৯৩৪ খ্রিস্টাব্দে ১১ই সেপ্টেম্বর তার জন্ম। বাবার নাম হরিশচন্দ্র রায়। ১৯৫০ শে তিনি ভারতে চলে আসেন বর্তমান তিনি কলকাতার বাসিন্দা।পেশা ছিল লেখালেখি। উপন্যাস লেখার জন্য সারা জীবন অনেক পুরস্কার পেয়েছেন ২০০১ সালে “মুক্তিযোদ্ধা কাজী ফয়জল” উপন্যাসের জন্য বাংলাদেশ সরকার তাঁকে দিয়েছে একুশে সাহিত্য পদক, “ক্রান্তিকাল” এর জন্য ২০০৩ সালে পান সাহিত্য একাডেমী পুরস্কার। “আকাশের নিচে মানুষ” এর জন্য ১৯৮৫ তে লাভ করেন বঙ্কিম পুরস্কার । সংগ্রামরত মানুষের জীবনযাত্রার অভিজ্ঞতা অর্জনের জন্য তিনি সারা দেশ গমন করেছিলেন আর এই উদ্দেশ্যেই তিনি বেশ কিছুকাল নাগাল্যান্ডের অধিবাসীদের মধ্যে বসবাস করেছিলেন যারা ছিল বিহারের অদৃশ্য এবং আন্দামানের মূল ভূখণ্ডের শিখরহীন মানুষ। যারা অধিকাংশই পরবর্তীকালে তাঁর উপন্যাসের উপজীব্য হয়ে ওঠে।পূর্ব পার্বতী, প্রতিধ্বনি, আগুনের কাছাকাছি, মুক্তিযোদ্ধা কাজী ফয়জল, সময়ের ইতিকথা, সিন্ধুপারের পাখি ,আবিষ্কার, বৃত্তিভূমি, পলাতক, রবীন্দ্রনাথ ও চার অধ‍্যায় প্রভৃতি বহু গ্রন্থ তিনি রচনা করেন। পিতৃভূমির গল্প অবলম্বনে তৈরি হয়েছে সিনেমা সিরিয়াল টেলিফিল্ম এর অন্যতম জনপ্রিয় সিরিয়াল কেয়া পাতার নৌকা তারই লেখা গল্প অবলম্বনে। এমন লেখকের প্রয়াণে সাহিত্যিক ও লেখক মহলে শোকের ছায়া। তার মৃত্যুতে গভীর শোক জ্ঞাপন সহ সন্তপ্ত পরিবারবর্গকে সমবেদনা জানান রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।অনেক আগেই হারিয়েছিলেন স্ত্রীকে। মৃত্যু কালে রেখে গেলেন দুই কন্যা ও অসংখ্য গুন মুগ্ধ।

Share

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *