
গৌরীশঙ্কর মহাপাত্র , দৈনিক আবেশভূমি : বলাগেড়িয়া কেন্দ্রীয় সমবায় ব্যাঙ্কের “আস্থার শতবর্ষ” স্বপ্ন, সংগ্রাম ও সাফল্য নিয়ে দু’দিনের অনুষ্ঠানের শুভ উদ্বোধন হয় শনিবার ব্যাঙ্কের বলাগেড়িয়া শাখায়।বিপ্লবী ক্ষুদিরামের মূর্তিতে মাল্য দানের মধ্য দিয়ে শোভাযাত্রার সূচনা করেন ব্যাঙ্কের ভাইস চেয়ারম্যান পার্থসারথী দাস।শোভাযাত্রায় স্থানীয় গ্রামবাসী,শুভানুধ্যায়ী, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন, স্বসহায়ক দল, সমবায় সমিতি ও ব্যাঙ্কের কর্মচারীগণ অংশ নেয়। প্রতিষ্ঠাতা দুই ভাই ও প্রাক্তন চেয়ারম্যান সমর দাসের প্রতিকৃতিতে মাল্যদান, পতাকা উত্তোলন, মঙ্গলদ্বীপ জ্বেলে অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন ব্যাঙ্কের চেয়ারম্যান তথা কাঁথি পৌরসভার চেয়ারম্যান সুপ্রকাশ গিরি। তিনি তার বক্তব্যে ব্রাঞ্চে দুই প্রতিষ্ঠাতা দেবেন্দ্রনাথ নন্দ ও সুরেন্দ্রনাথ নন্দের মূর্তি দ্রুত স্থাপন সহ ব্যাঙ্কের পরিকাঠামেসহ মানোন্নয়নের আশ্বাস দেন। বলেন আমি অত্যন্ত আনন্দিত ও ভাগ্যবান এই কারণে যে, একশো বছরের উদযাপন যখন শুরু হয়েছে,তখন ব্যাঙ্কের সভাপতি আমি। ফলে এটা অত্যন্ত আনন্দের বিষয় আমার হাত ধরেই এই অনুষ্ঠান হচ্ছে। তিনি জানিয়েছেন, আমরা এই একশো বছরের নাম দিয়েছি “আস্থা”! তবে সম্পূর্ণ মানুষের আস্থা না থাকলে কখনো কোন প্রতিষ্ঠান এগোতে পারে না। এই আস্থার সাথে সাথে স্বপ্ন দেখবে মানুষ। সেই স্বপ্নকে নিয়ে হবে সংগ্রাম। আর লাগাতার সংগ্রামের পর সাফল্য আসবে। ব্যাংকের পেছনে যাদের অবদান রয়েছে তাদের কখনোই ভোলা যায় না। ফলে আমরা কয়েক দিন ধরে এই একশো বছরের মহতি দিনটির জন্য অপেক্ষা করেছিলাম এবং নানান কর্মসূচির মধ্য দিয়ে আমরা পালন করবো। পাশাপাশি, সমাজসেবামূলক কাজের জন্য আমরা কাঁথি মহকুমা হাসপাতালে রোগীদের জন্য হুইল চেয়ারের ব্যবস্থা করেছি যা আমরা তাদের হাতে তুলে দেব। 
উপস্থিত প্রতিষ্ঠাতা দেবেন্দ্র নাথ নন্দের ছেলে ব্যাঙ্কের প্রাক্তন সম্পাদক আইনজীবী গুরুপ্রসাদ নন্দ প্রাক্ স্বাধীন যুগে ১৯২৫ সালের ২৮ শে জুন তাদের বাড়ির ক্যাম্পাসে এই ব্যাঙ্কের স্থাপনের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট তুলে উপস্থিত সকলকে সমৃদ্ধ করেন। জানান দেবেন্দ্রনাথ নন্দের কাকা মুগবেড়িয়ার রায় বাহাদুর গঙ্গাধর নন্দ ছিলেন বৃটিশের আস্থা ভাজন এবং বাবা দিগম্বর নন্দ ছিলেন সশস্ত্র আন্দোলনের নেতৃত্ব। বলাগেড়িয়ায় দিগম্বর নন্দের বাড়িতে এসে স্বাধীনতা আন্দোলনের গোপন শলাপরামর্শ করতেন বপ্লবী ক্ষুদিরাম বসু। ১৯০৮ সালে ক্ষুদিরাম বসুর ফাঁসি হওয়ার পর দিগম্বর নন্দের মাথার হুলিয়া জারি করে বৃটিশ সরকার। তিনি কাশির বারানসীতে একটি পোড়ো বাড়ি কিনে মেরামতি করে কালীকিংকর ভট্টাচার্য ছদ্মনামে আত্ম গোপন করেন।২০২৩ সালে এলাকার সামাজিক ও আর্থিক মানোন্নয়নে মুগবেড়িয়া সেন্ট্রাল কো অপারেটিভ ব্যাঙ্কে স্থাপনে সুরেন্দ্রনাথ নন্দের ৫ ছেলে মহেন্দ্রনাথ, যোগেন্দ্রনাথ ও জ্ঞানেন্দ্রনাথ মর্যাদা পেলেও উপেক্ষিত হন দেবেন্দ্রনাথ ও সুরেন্দ্রনাথ নন্দ। পরবর্তী কালে ১৯২৫ সালের ২৮ জুন দেবেন্দ্রনাথ ও সুরেন্দ্রনাথ তাদের বসত বাটিতে এই ব্যাঙ্ক স্থাপন করেন। প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান দেবেন্দ্রনাথ নন্দ টানা ১০ বছর পরাধীন ভারতে চেয়ারম্যান ছিলেন। প্রসঙ্গত পরবর্তীকালে ব্যাঙ্কটি এখান থেকে সাত মাইলে স্থানান্তরিত করা হয়। ১৯৭৯ থেকে ৮১ সাল পর্যন্ত সময়কালে ব্যাংকে আমি সম্পাদক থাকা কালে সমবায়ী অধ্যাপক সুধাংশু পন্ডার সহযোগিতায় বলাগেড়িয়াতে পুনরায় শাখা চালু হয়। সেই সময় কালে নাচিন্দা, বলাগেড়িয়া, দেউলীহাট এবং কাঁথি নাইট ও সানডে ব্রাঞ্চ উদ্বোধন হয় বলে জানান। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে শেষে দেবেন্দ্র পঞ্চায়েতের খারিজবাড় এম এস কে’তে স্বাস্থ্য শিবির ও ব্যাংক পরিষেবা নিয়ে আলোচনা হয়। ব্রাঞ্চ ও শিশু শিক্ষা কেন্দ্রে দিনটিকে স্মরণীয় করতে ও সবুজায়নের বার্তা দিতে বৃক্ষরোপণ হয় বিদ্যালয় ও শাখা ক্যাম্পাসে। উপস্থিত ছিলেন প্রতিষ্ঠাতা পরিবারের দীলিপ কুমার নন্দ ও স্থানীয় প্রাক্তন প্রধানগুরুপদ নন্দ, ব্যাঙ্কের এজিএম বিকাশ রথ, প্রাক্তন দুই চেয়ারম্যান অহিভূষণ পাহাড়ি ও কাঁথি সমবায় ইউনিয়নের সম্পাদক সত্যজিৎ ধাড়া, বাঙ্ক সম্পাদক স্বপন কুমার পয়ড়্যা, ব্যাংকের ডাইরেক্টর কন্টাই কো-অপারেটিভ ব্যাংকের ভাইস চেয়ারম্যান তরুণ কুমার জানা, রত্নদীপ মান্না, তপন কুমার পয়ড়্যা, সমাজসেবী নিখিলেশ দাস প্রমুখ।ব্যবস্থাপনায় ব্যাঙ্কের বলাগেড়িয়া শাখার ব্রাঞ্চ ম্যানাজার মানস প্রসাদ ঘটক। প্রতিষ্ঠা শাখায় উদ্বোধনের সঙ্গে সঙ্গে ব্যাঙ্কের সব শাখায় পতাকা উত্তোলন ও রাতে আলোক মালায় সাজিয়ে দিনটি যথাযথভাবে পালন করা হয়। এমন ঐতিহাসিক মুহূর্তে ব্যাঙ্কের পূর্ণ পরিচালন কমিটিকে মঞ্চে না পাওয়ায় যেমন অনেকে হতাশ তেমনি গুঞ্জনও থেমে থাকার নয় । কেন এমন ঐতিহাসিক মুহূর্তে দুই প্রতিষ্ঠাতার মূর্তি না বসিয়ে ফটোতে মালা দিয়ে শ্রদ্ধা জ্ঞাপন ? কেনই প্রতিশ্রুতি এ নিয়ে চর্চা বলাগেড়িয়ার গ্রামে।রবিবার কাঁথি প্রধান কার্যালয়ে ব্যাঙ্কের প্রবাদ প্রতিম আমৃত্যু চেয়ারম্যান সমরেশ দাসের আবক্ষ মূর্তির আবরণ উন্মোচন, কাঁথি মহকুমা হাসপাতালে হুইলচেয়ার,স্ট্রোচার প্রদান ও রোগীদের ফল বিতরণ সহ গুচ্ছ কর্মসূচির মধ্য দিয়ে দুদিনের অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটবে।সমগ্র অনুষ্ঠানের সঞ্চালনায় ব্যাঙ্কের ভাইস চেয়ারম্যান পার্থসারথী দাস।