
গৌরীশঙ্কর মহাপাত্র ও রাজকুমার মহাপাত্র, দৈনিকআবেশভূমি :এগরা-২ ব্লকের ঐতিহ্যবাহী সেবাট্রাস্ট বালিঘাই জগন্নাথ জীউ সেবা সমিতির রথযাত্রা উপলক্ষে ১৬দিনের রথের মেলা ও ১৫ দিনের সৌখিন যাত্রা প্রতিযোগিতা শেষে মঙ্গলবার কৃতিদের পুরস্কার বিতরণীর মধ্য দিয়ে ১৬ দিনের অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে। এদিন যাত্রা ও রথ প্রতিযোগিতার দুটি বিভাগের প্রথম দ্বিতীয় তৃতীয়কে পূর্ব ঘোষণা মত পুরস্কৃত করা হয়। স্বাগত ভাষণে সংস্থার কর্ণধার একালের দানবীর আশীষ ধাওয়া জানান প্রত্যহ বৈকালিক ও সান্ধ্যকালীন অনুষ্ঠানে সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষদের সম্বর্ধনা জ্ঞাপন পর্বে ৭ বৃহন্নলা ,৭৫ কৃতি ছাত্র-ছাত্রী ও ৮ গুণীজনকে, ৩৪ মুক বধির, ১০ জন কাকমারাকে সংবর্ধনা দেওয়া হয়েছে। আজ সমাপ্তি দিনে অনাথ আশ্রম ও বৃদ্ধাশ্রম এর জন্য ভূমি দাতা এই ব্লকের সাহাপুর মৌজার লক্ষণ সিংহ ও ভুবন মোহন সিংহকে উত্তরীয়, মানপত্র, পুষ্পস্তবক, অনুষ্ঠান স্মারক এবং জগন্নাথ বলরাম সুভদ্রার রৌপ্যমূর্তি সহ উপহার সামগ্রী দিয়ে সম্বর্ধনা জ্ঞাপনের আয়োজন হয়েছে। কয়েক দিনে ৪দিব্যাঙ্গকে ট্রাই সাইকেল ,৪ বিভিন্ন সংগঠনকে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়েছে।এরপর রথ প্রতিযোগিতায় ” ক” বিভাগে প্রথম: মল্লিকপুরের সার্থক পাত্র (৩০০০), দ্বিতীয়: ভাটদার পুষ্পেন্দু মাইতি (২০০০), এবং তৃতীয়: দাউদপুরের অঙ্কিতা খাটুয়া “খ” বিভাগে প্রথম:কাঁথি’র কিশলয় সংঘ(৫০০০), দ্বিতীয়: কাঁথি নেতাজী সংঘ(৩০০০) এবং তৃতীয়: কঁচুড়ি’র রুপম জানা’কে(২০০০) পূর্ব ঘোষণা মত আর্থিক চেক তুলে দিয়ে পুরস্কার বিতরণী পর্বের সূচনা করেন সম্পাদক আশীষ ধাওয়া। যাত্রা প্রতিযোগিতায় ১৫টি দল অংশগ্রহণ করলেও ৭টি দলকে পুরস্কৃত করা হয়। প্রথম: হাওড়া শ্যামপুর যাত্রা সংস্থার, জোড়াদিঘীর হায়না- (১২,০০০), দ্বিতীয়: দাঁতন দেবাংশু যাত্রা সংস্থা’র, আমি শুধু চেয়েছি তোমায়-(১০,০০০),তৃতীয়: মুকুন্দপুর পূর্বগোপীনাথপুর যাত্রা সংস্থা’র, চেনা পৃথিবীর অচেনা মানুষ,(৮০০০) ,চতুর্থ: টেংরামারি জাগরণী সংঘ’র, অচল পয়সা (৬০০০) , পঞ্চম :পানিপারুল যাত্রা সংস্থার’, বন পলাশীর বাগদি ছেলে (৪০০০),ষষ্ঠ: নয়াগ্রাম ত্রিশক্তি যাত্রা সংস্থা’র, বিসর্জনে দেবীর বোধন (৩০০০) ,সপ্তম: তিনটি দলের প্রত্যেকে (২০০০) টাকার চেক দেওয়া হয়। দলগুলি ক) নিজদন্ট সুন্দরম যাত্রা সংস্থা’র, সুন্দরীর ফাঁদে শয়তান কাঁদে , খ) সাঁতরাপুর শ্রীদুর্গা যাত্রা সংস্থা’র, অশ্রু দিয়ে লেখা, গ) সেলমাবাদ বিবেকানন্দ যাত্রা সংস্থা’র, বুনো ওল বাঘা তেঁতুল। শ্রেষ্ঠ অভিনেতা- গোবিন্দ এবং শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রী- অহনা, যাত্রাপালা আমি শুধু চেয়েছি তোমায়। শ্রেষ্ঠ খলনায়ক, চেনা পৃথিবীর অচেনা মানুষ পালার কুন্তল চরিত্র।সেরা কৌতুক, সুন্দরীর ফাঁদে শয়তান কাঁদে পালার ধর্মদাস চরিত্র। শ্রেষ্ঠ শিশু শিল্পী অশ্রু দিয়ে লেখা পালার শ্যামসুন্দর। বিচারক মন্ডলীর অন্যতম নাট্যকার ও প্রখ্যাত অভিনেতা দীপক কুমার নন্দী ১৫ দিনের যাত্রার তর্জমা করেন। সঙ্গে ছিলেন অন্য দুই বিচারক অহীন্দ্র কুমার রায় ও নারায়ন চন্দ্র মাইতি।ছিলেন সহ সভাপতি শংকর নারায়ণ মিশ্র,মঞ্জুশ্রী পঞ্চায়েত প্রধান শঙ্কর সাউ ,বিবেকানন্দ পঞ্চায়েত প্রধান মনীষা গুচ্ছাইত, এগরা-২ পঞ্চায়েত সমিতির প্রাক্তন সভাপতি প্রকাশ রায়চৌধুরী, প্রাক্তন এসডিএমও এইচ ডা অনিল কুমার মিশ্র , বাজার কমিটির সম্পাদক গুরুপদ দাস হার্ট কমিটির সভাপতি স্বপন কুমার ভূঁইয়া, পরিচালন কমিটির সদস্য তপন কুমার মন্ডল, শিশির কুমার মাইতি, তপন কুমার সামন্ত, যুগ্ম সহ সম্পাদক বিরজাকান্ত প্রধান, সমীর নায়ক গৌতম দাস, কমল গিরি প্রমূখ। মঞ্চ সহযোগিতা বৈশাখী প্রধান, কাজল প্রধান, দৈবকী সামন্ত, বন্দিতা প্রধান,
মানগোবিন্দ জানা, ধনঞ্জয় সিংহ প্রমুখ।সঞ্চালনায় সংস্থার যুগ্ম সহ-সম্পাদক জন্মেঞ্জয় প্রধান। সভায় পৌরহিত্য করেন সংস্থার কার্যকরী সভাপতি অহীন্দ্র কুমার রায়। রাতে মনোজ্ঞ বিচিত্রা অনুষ্ঠান শেষে ১৬দিনের অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা করেন সম্পাদক আশীষ ধাওয়া।