
প্রদীপ মাইতি , খড়্গপুর: শনিবার পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার খড়্গপুর শহর ও মেদিনীপুর শহর জুড়ে রামনবমী উপলক্ষে একাধিক স্থানে বাইক মিছিল ও শোভাযাত্রা বের করল রামনবমী উদযাপন কমিটি।এ দিন সকাল থেকে খড়গপুর শহরের বেশিরভাগ স্থানেই এই কর্মসূচিতে শামিল হয়েছিলেন বিজেপি রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ। বিকেলে মেদিনীপুর শহরে বিশাল বাইক মিছিলে অংশ নেন তিনি। মেদিনীপুর শহরে তার মন্তব্যে শোরগোল পড়েছে রাজনৈতিক মহলে।

শনিবার বেলা দশ’টা থেকে খড়গপুর শহরের নিউ ডেভলপমেন্ট, কৌশল্যা, ঝাপেটাপুর ,ঝুলি ও তালবাগিচা এলাকায় বিভিন্ন আখড়া কমিটির সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। বিভিন্ন জায়গাতেই রামের মূর্তিতে শ্রদ্ধা জানিয়ে কোথাও বল্লাম, কোথাও তরোয়াল উঁচিয়ে অস্ত্র প্রদর্শন করেন তিনি। খড়্গপুরের বেশ কয়েকটি স্থান এর লাঠি খেলতেও দেখা গিয়েছে দিলীপ ঘোষকে। বিরোধীদের অভিযোগ রামনবমীর আখড়াতে শামিল হওয়ার নাম করে আদপে এ দিন ভোট প্রচার করেছেন দিলীপ ঘোষ। নিজের ছবি দেওয়া গেঞ্জি বিলি করেছেন তিনি। বিকেলে মেদিনীপুর শহরের জজকোর্ট এলাকা থেকে আনুষ্ঠানিক একটি রামনবমীর বাইক মিছিল উদ্বোধন করেন তিনি। বিশাল এই বাইক মিছিল সমগ্র মেদিনীপুর শহর ঘোরে।
অস্ত্র উঁচিয়ে ঘোরা প্রসঙ্গে দিলীপ ঘোষ কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন, “অস্ত্রশস্ত্র রাস্তায় হাতে নিয়ে ঘুরলে অপরাধ, আখড়ার অস্ত্র লাইসেন্স প্রাপ্ত। আর আমি এলাকার বিধায়ক তাই আমার ছবি ছাপা গেঞ্জি বিলি হয়েছে। এবার মোদীর ছবি ছাপা গেঞ্জিও বিলি হবে।” এ দিন মুখ্যমন্ত্রী উত্তরবঙ্গে একটি সভা থেকে রামনবমী উপলক্ষে ধর্মের নামে রাজনীতি করছে বলে অভিযোগ তুলেছিলেন বিজেপির বিরুদ্ধে। তৃণমূলের পক্ষ থেকে অভিযোগ দীলিপবাবু রামের নামে রাজনীতি করছেন। তার উত্তরে দিলীপ ঘোষ বলেন, “যার ক্ষমতা আছে করবে। রাম তো রাজা ছিলেন, তাকে নিয়ে রাজনীতি করবো না তো কাকে নিয়ে করবো। এখানে আল্লাকে নিয়ে রাজনীতি হচ্ছে কেন? এটা তো রামের রাজত্ব, রামের দেশ। আমরা এখানে রামকে নিয়ে হাজারবার রাজনীতি করবো। কারো হজম না হলে হোমিওপ্যাথি বড়ি খান। আর নির্বাচনের সময় নয়, আমরা সারা বছর ধর্মের কাজ করেছি। আমরা ধর্মের পথে চলি। বাকিরা তো চোর দুর্নীতিগ্রস্ত।” এ দিন তৃণমূলের জেলা সভাপতি অজিত মাইতি বলেন ” এটা কার রাজত্ব সেটা বিজেপির কাছ থেকে মানুষ শিখবে না ৷ গণতান্ত্রিক দেশে সর্ব ধর্মের মানুষই বাস করবেন ৷ নিরেপক্ষতার বুলি আওড়ানো বিজেপি কিভাবে ধর্মের ভিত্তিতে বিভাজন করছেন সেটা ওনার বক্তব্যেই পরিষ্কার ৷নির্বাচন কমিশনকেও বলবো উনি অস্ত্র হাতে কি ভাবে আইন ভেঙ্গেছেন সেটা দেখুন ৷আমরা অভিযোগ জানাবো ৷” শনিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত অবস্য কোনো অভিযোগ দায়ের হয় নি পুলিশের কাছে ৷ পুলিশ সুপার অলোক রাজোরিয়া বলেন ” কোনো অভিযোগ করেনি বা এই মিছিল নিয়ে কোনো বিশৃঙ্খলার অভিযোগ নেই ৷ তবে খড়্গপুর দিলীপ বাবু মন্দিরে অস্ত্র ধরেছেন ৷ রাস্তাতে নয় ৷ ওটা নিয়ে তেমন কোনো বিষয় নেই এখনও।”
