গৌরীশঙ্কর মহাপাত্র ও রাজকুমার মহাপাত্র, দৈনিক আবেশভূমি, ৫ অক্টোবর: ১৯৯৪ থেকে ইউনিসেফ এর স্বীকৃতিতে বিশ্বের শিক্ষক সংস্থাগুলি ৬ অক্টোবর আন্তর্জাতিক শিক্ষক দিবস পালন করে। এমন দিনের ঠিক আগে পাঁচ অক্টোবর রবিবার পূর্ব মেদিনীপুর জেলার পটাশপুর-২ ব্লকের শ্রীরামপুর পঞ্চায়েতের বড়কুমারদায় প্রয়াত শিক্ষক বরেন্দ্রনাথ মহান্তির পরিবারের প্রাক্তন আমলা প্রদীপ কুমার মোহান্তি এক অভিনব সামাজিক শিক্ষা দিল শ্রমজীবী সমাজকে।যাদের শ্রম সৃষ্টিতে সমৃদ্ধ ও পুষ্ট তাদের পরিবার এমনদেরকে সম্মানিত করতে এক ব‍্যতিক্রমী অনুষ্ঠানের আয়োজন করে বরেনবাবুর উত্তর সূরী প্রদীপ বাবুরা। “শ্রম ও সৃষ্টির স্মারক সম্মান” শিরোনামে সম্মাননা প্রদানে অভিভূত কৃষি ও কায়িক শ্রমিক নির্ভর গ্ৰাম বাংলা।দড়ো আমলা প্রদীপবাবু কাজে বুঝিয়ে দিলেন

    রবি ঠাকুরের “ওরা কাজ করে” কবিতার সেই কলিগুলি- “ওরা চিরকাল /টানে দাঁড়, ধরে থাকে হাল;/ওরা মাঠে মাঠে বীজ বনে, /পাকা ধান কাটে -/ওরা কাজ করে/ নগরে প্রান্তরে ” কিংবা”ধূলা মন্দির” কবিতার সেই ছত্রে আসল দেবতা অস্তিত্ব খুজতে বলেন-” তিনি গেছেন যেথায় মাটি ভেঙ্গে /করছে চাষা চাষ– /পাথর ভেঙে কাটছে যেথায় পথ ,/খাটছে বারো মাস। রুদ্র জলে আছেন সবার সাথে, /ধুলা তাহার লেগেছে দুই হাতে;/ তারই মতন সূচিবম ছাড়ি/ আয়রে ধুলার পরে।/ এই থিমকে সামনে রেখে বৈকালিক অনুষ্ঠানে যাঁদের কথা কেউ ভাবে না, কখনোই সেই অর্থে সম্মানিত করে না ,সেই অবহেলিত মানুষদের পরম আত্মীয় জ্ঞানে পুষ্প স্তবক, উত্তরীয়,মানপত্র ,স্মারক, পরিবেশ বান্ধবকে
      মান্যতা দিয়ে নারিকেল চারা ও উপহার সামগ্ৰী দিয়ে অনুষ্ঠানিক ভাবে সম্মানিত করা হয়।
      এই পরিবারের বহু সদস্য শিক্ষক, ডাক্তার, অধ্যাপক, নার্সিং কলেজের শিক্ষিকা ও দেশ বিদেশে সরকারি ও বেসরকারী উচ্চপদে আসীন। তরুণ প্রজন্মের অন্যতম অসীম কুমার মহান্তি কলকাতার সুবিখ্যাত “আহেলি পাবলিশার্স”এর কর্ণধার।বরেন্দ্রভবন’ পরিবারের পক্ষে অনুষ্ঠানের ডাকে

        সাড়া দিয়ে আসা সুধীর চন্দ্র সিংহ , মহেশ্বর মণ্ডল, বিপীন চন্দ্র সিংহ, কার্তিক মাইতি, তপন কুমার সাউ,ভীমাপদ মাইতি,সুবোধ চন্দ্র পাত্র, মারহুম শেখ ,হামিদুল্লা, মারহুম শেখ কালু, কালীপদ পাত্র প্রমুখের হাতে এবং চলশক্তিহীনদের পরিবারের হাতে দেবতা জ্ঞানে সম্মাননা স্মরক ও উপহার সামগ্ৰী তুলে দেওয়া হয় সযতনে। প্রয়াত মৃত্যুঞ্জয় দাস, বরেন্দ্রনাথ বারিক, সুরেন্দ্রনাথ পাত্র,গোপীনাথ গিরি,সনাতন দাস, প্রফুল্লচন্দ্র সিংহ,মহেশ্বর মাইতি, কেদারনাথ দাস প্রমুখদের পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হয় মরণোত্তর সম্মাননা।

          প্রয়াত বরেন্দ্রবাবুর কনিষ্ঠ পুত্র অনুষ্ঠানের মুখ‍্য আয়োজক প্রদীপ কুমার মহান্তি পশ্চিমবঙ্গ সরকারের স্বাস্থ্যসহ বিভিন্ন দপ্তরের প্রাক্তন ডাইরেক্টর ও সচিব অনুষ্ঠান নিয়ে স্বাগত বক্তব্যে বলেন-“এই সমস্ত মানুষ জলে ভিজে রোদে পুড়ে আমাদের পরিবারের সদস্যদের সমৃদ্ধ হতে অকৃপণ সহায়তা করেছেন। তাঁদের সম্মান জানানো আমার কর্তব্য বলেই এমন আয়োজন। এই সমস্ত শ্রমজীবী মানুষ না থাকলে আমরা কেউ সমাজে প্রতিষ্ঠিত হতে পারতাম না। তিনি আরও বলেন এই পরিবারকে আজ পূর্ব মেদিনীপুর জেলা তথা রাজ্যের অন্যতম এক পরিবার হিসেবে তুলে ধরবার পেছনে ইনাদের অসামান্য অবদান,তাঁদের ভুলি কি করে?

            অতিথিদের মধ্যে উপস্থিত নন্দীগ্রাম স্বাস্থ্য জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক ড.অসীম দেওয়ান বলেন-” বহু অনুষ্ঠান আমি দেখেছি এবং উপস্থিত থেকেছি, কিন্তু এইধরনের অনুষ্ঠান আমি এই প্রথম দেখলাম। সম্পূর্ণ
              স্বতন্ত্র ভাবনার পরিচয় দিলেন প্রদীপ বাবুদের পরিবার।” ছিলেন পরিবারের সুহৃদ ডা অমলেন্দু পাহাড়ী, বিনয় মহান্তি, ডা সুধাময় মহান্তি প্রমুখ।
                সূচনায় পরিবারের মহিলা ব্রিগেডের রবি ঠাকুরের “পুরানো সেই দিনের কথা” উদ্বোধনী সংগীতে এবং বর্ষিয়ান সদস্য প্রাক্তন শিক্ষক বিনয় মহান্তির মঙ্গলদ্বীপ প্রজ্জ্বলনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়।

                  সামগ্রিক ব্যবস্থাপনায় পরিবারের হিতাকাঙ্খী রনজিৎ মহান্তি ও ‘বরেন্দ্রভবন’ পররিবারের সেকেন্ড, থার্ড ও ফোর্থ জেনারেশন। ব‍্যতিক্রমী এই অনুষ্ঠানের সঞ্চালনায় বিধানচন্দ্র মহান্তি। সামগ্রিক অনুষ্ঠান শেষে উপস্থিত সকলকে সহযোগিতার জন্য কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জানান প্রদীপ কুমার মহান্তি।

                  Share

                  Leave a Reply

                  Your email address will not be published. Required fields are marked *