গৌরীশঙ্কর মহাপাত্র, দৈনিক আবেশভূমি,১১ অক্টোবর: রামকৃষ্ণলোকে পাড়ি দিলেন কাঁথি হিন্দু বালিকা বিদ্যালয়ের প্রথিতযশা প্রাক্তন প্রধান শিক্ষিকা ড ছবি মহাপাত্র(৭২)। দীর্ঘদিন তিনি ক্যান্সারে ভুগছিলেন। মাঝখানে কেমোথেরাপিও চলছিল, বলেছিলেন ভালো হয়েছি।সম্প্রতি তিনি কাঁথিতে রামকৃষ্ণ মঠ ও মিশনের পাশাপাশি একটি ভাড়া বাড়িতে থাকতেন।জন্মসূত্রে পশ্চিম মেদিনীপুর ঘেষা পূর্ব মেদিনীপুর জেলার এগরা-১ব্লকের বরিদা পঞ্চায়েতের কেয়াবর্তনার এই কৃতী উৎকল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ভাষা সাহিত্যে ডক্টরেট লাভ করেন। শিক্ষকতা শুরু করেন বেলদা প্রভাতী বালিকা বিদ্যালয়ে।সেখান থেকে প্রধান শিক্ষিকা হিসাবে যোগ দেন কাঁথির স্বনামধন্য হিন্দু বালিকা বিদ্যালয়ে ।তার আমলেই বিদ্যালয় মাটির কলেবর ছেড়ে বর্তমান পরিকাঠামোয় উন্নীত হয়। স্কুলের খ্যাতি জেলা ছাড়িয়ে রাজ্যের বাইরে একটি উল্লেখযোগ্য জায়গা করে নেয়। অকৃতদারএই শিক্ষিকা বিদ্যালয়ের পেছনের হোস্টেলে থেকে আশ্রমিক কায়দায় বিদ্যালয় পরিচালনা করেছেন দক্ষতা ও যত্নের সঙ্গে। প্রশংসা কুড়িয়েছেন আমজনতার। নিত্য যোগাযোগ ছিল কাঁথি রামকৃষ্ণ মঠ ও মিশনের সঙ্গে। স্বামীজি ও মায়ের আদর্শে নিজেকে

    যেমন উপযুক্ত করে ছিলেন তেমনি বিদ্যালয়ের ছাত্রী এবং শিক্ষিকাদেরকে  একই পরিবারের সদস‍্যের মত সমৃদ্ধ করেছিলেন। পোশাক আসাকে গলায় রুদ্রাক্ষী ও হলুদ শাড়ীতে আশ্রমিক রীতিকে প্রাধান্য  দেওয়াএই সদা হাস‍্যময়ী মৃদু ভাষিণী শিক্ষাবিদকে অন‍্য পোষাকে কখনো দেখছি বলে মনে হয় না।অবসরের পরও প্রায় বছর কাল তিনি বিদ্যালয়ে অকপটে অভিভাবকত্ব করেছেন। অবসরের পরে তিনি এগরা-১ পঞ্চায়েত সমিতির সহ সভাপতি, পরের টার্মে জেলা পরিষদ সদস্যা। সেই সুবাদে জেলা প্রাথমিক বিদ্যালয় সংসদেরও সদস্যা ছিলেন। বর্তমান কাঁথিতে থাকলেও কলকাতার চিকিৎসকের পরামর্শে তার চিকিৎসা চলছিল। শনিবার শারীরিক অসুস্থতা বাড়াবাড়ি হতেই কলকাতা নিয়ে যাওয়ার পথে সন্ধ্যা ৭ টার নাগাদ তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তার মৃত্যুর খবরে তার দুই বিদ্যালয়, এগরার গ্ৰামসহ জেলা জুড়ে শোকের ছায়া নেমে আসে। শোকের ছায়া নেমে আসে তার প্রিয়জন ও শুভানুধ্যায়ীদের মধ্যে। মৃত্যু কালে তিনি রেখে গেলেন দাদা- বৌদি, ভাই- ভাই বৌ, ভাইপো, ভাইঝি- জামাই,ছাত্র-ছাত্রীসহ অসংখ্য গুণমুগ্ধ।

    Share

    Leave a Reply

    Your email address will not be published. Required fields are marked *