বীরকুমার শী : খুব ভোরে ঘুম থেকে উঠতাম। তবু উঠে দেখতাম মা জ্যঠাইমারা তারও আগে ঘরদোর ঝাঁট দিয়ে বাড়ির সামনের সব্জি বাগানে খড়কুটো গাছের পাতা মাঝে মাঝে জড়ো করে ল্যম্প দিয়ে আগুন ধরাচ্ছে। চারদিকে শুধু ধোঁয়া ধোঁয়া ধোঁয়া। শুনেছিলাম আজকে নাকি পুরনো গাছ পাতা পোড়াতে হয়। জ্যাঠামশায় বলেছিল, আজ বাগানে ধোঁয়া দিলে মশা পোকামাকড় মরে যাবে। কেউ বলেনি আমায় পুরনো বছরের আবর্জনা সব পুড়িয়ে দিলাম। নতুন করে সব শুরু। # বাগানে ধোঁয়া দেওয়ার পর গরুকে চান করার ধুম পড়ে যেত। তখন তো আর ট্যপ কল ছিল না। পুকুর থেকে কলসি কলসি জল এনে গরুর গায়ে ঢালা হতো। কখনও কখনও গরুকে দড়ি ধরে টেনে পুকুরে নামিয়ে দিতাম। প্রথমে নামতে না চাইলেও গরমে ঠান্ডা জলে আরাম পেয়ে দাড়িয়ে থাকতো। আমরা খড় দিয়ে গা ঘষে ঘষে ময়লা পরিষ্কার করে দিতাম। # বিকেল হলে কেউ কেউ বাবার সঙ্গে বাজারে যেতাম। যে সব দোকানে সারা বছর কেনাকাটা করা হতো মূলতঃ সেই সব যাওয়া হতো। দোকান বলতে মূলত ভূষিমাল দোকান, কাপড়ের দোকান, গয়নার দোকান।দোকানগুলো আমডালা দিয়ে সাজানো থাকতো। এদের আবার কেউ আগে থেকে হলুদ বা সাদা রংয়ের কার্ডে লাল কালিতে নমো গণেশায় নমো লেখা হালখাতার কার্ড দিয়ে যেত। সবার বাড়িতে দিত না ঠিকই তবে ঐ দিন গেলে কাউকে ফেরাতো না। একটা মিষ্টি র প্যাকেট ধরিয়ে দিত। বনেদি খরিদ্দারদের ঠাকুর দেবতার ছবিওয়ালা ক্যালেন্ডার দিত। ঐ ক্যালেন্ডার বাড়ির দেওয়ালে লাইন দিয়ে টাঙ্গানো থাকতো। কোন কোন ক্যালেন্ডার থেকে ছবি কাঁচ দিয়ে বাধিঁয়ে আনা হতো। এগরার তরণী রানার ছবি বাধাঁনোর ব্যপারে খুব নাম ছিল। আমার মনে আছে, বাবাকে বলে একটা সরস্বতীর ফটো, আর একটা নারায়ণের ছবি বাধিঁয়ে এনেছিলাম। এখনও চোখ বন্ধ করলেই সে ছবি স্পষ্ট দেখতে পাই। যে কথাটা না বলে নয়, হিমাংশু মাইতি ষর বঙ্গশ্রী বস্ত্রালয়ে ক্যালেন্ডার নেওয়ার জন্য ভীড় লেগে থাকতো। ঐ ক্যালেন্ডারে কোন ছবি থাকতো নাহ কেবল ক্যালেন্ডার সংক্রান্ত সমস্ত তথ্য বড় বড় করে বিশদে থাকতো। বলা যেতে পারে ক্যালেন্ডার আকারে একটা পঞ্জিকা। সিন সিনারির ক্যালেন্ডার এসেছে অনেক পরে। যাই হোক, কেউ কেউ ক্যালেন্ডার চাইতো।

     

    অনেকে ক্যালেন্ডারের জন্য ঐ দিন কিছু কিনতো। ঐক্যালেন্ডার না পেলেও মিষ্টি প্যাকেট অন্তত পেতো। মিষ্টি প্যাকেট বলতে একটা হলুদ রঙের দানা দানা বিশেষ ধরনের মিষ্টি। আমরা বলতাম মোচ্চর মিষ্টি। মিহিদানা নিমকিও থাকতো। কোথাও কোথাও এর সাথে খাস্তা গজাও দিত। ছোটরা যারা বাড়িতে থাকতো অনেক রাত পর্যন্ত জেগে থাকতো মোচ্চর মিষ্টির জন্য। ঘুমিয়ে গেলে তারপর দিন ভোরে উঠে মিষ্টির খোঁজ হতো। মিষ্টি খাওয়ার পর ক্যালেন্ডারের ছবি দেখতে বসতামহতার রেশ থাকতো কয়েক দিন হ

    Share

    Leave a Reply

    Your email address will not be published. Required fields are marked *