
গৌরীশংকর মহাপাত্র ও রাজকুমার মহাপাত্র, আবেশভূমি,২০ নভেম্বর: এগরা প্রেসক্লাব, ত্রিস্তর পঞ্চায়েত ও পৌর প্রশাসনের সহযোগিতায় ত্রয়োদশবর্ষ এগরা মহকুমা বইমেলার ষষ্ঠ দিন ছিল স্বামী জগদীশ্বরানন্দজী ও পটাশপুর-২ দিবস। ব্লকের সাউন্ডখন্ড পঞ্চায়েতের ছোট উদয়পুর গ্ৰামের মাইতি পরিবারের সাত ভাইয ও তিন বোনের কনিষ্ঠ ভ্রাতা ভুবনমোহন থেকে স্বামী জগদীশ্বরানন্দজীতে উত্তরণ, তাঁর শিক্ষা আড়গোয়াল বোর্ড প্রাথমিক, টিকরাপাড়ায় ই এম আই, মুগবেড়িয়া গঙ্গাধর একাডেমি, কন্টাই হাই স্কুল হয়ে, স্কটিশ চার্চের গণিত বিষয়ে পঠন পাঠন, দৃষ্টি শক্তি হারানো, মহারাজদের সান্নিধ্যে আসা, সন্ন্যাস ধর্ম গ্রহণ ,আশ্রম প্রতিষ্ঠা, পটাশপুরে স্বামী জগদীশ্বরানন্দ স্মৃতিরক্ষা সমিতি গঠন, ছোট উদয়পুর জন্মভিটায় তার শিষ্য কালিকা মহারাজের মন্দির স্থাপন সহ বাংলা ভাষায় চন্ডী শ্রীমদ্ভাগবত সহ প্রায় ৭০ টি বইয়ের প্রকাশনা কৃতিত্ব তুলে স্মারক বক্তৃতায় উপস্থিত সকলকে সমৃদ্ধ করেন দেউলবাড় গ্রামমঙ্গল গুচ্ছ সমিতির অন্যতম সংগঠক ও প্রাক্তণ শিক্ষক সুভাষচন্দ্র দাস।উপস্থিত পটাশপুর-২ব্লকের বিডিও শঙ্খ ঘটক তার বক্তব্যে বইমেলার প্রাসঙ্গিকতা তুলে ধরেন।পটাশপুর দক্ষিণ চক্রের অবর বিদ্যালয় পরিদর্শক সন্দীপ দে বিদ্যালয়ের আগত ছাত্র-ছাত্রীদের বইতে মনোনিবেশের পরামর্শ দেন।জেলা পরিষদ সদস্য প্রণতি আচার্য দাস , মেলা কমিটির কার্যকরী সভাপতি বীরকুমার শী, পঞ্চায়েত সমিতির খাদ্য কর্মাধ্যক্ষ সোনালী দিন্দা, শিশু নারী কল্যাণ কর্মধ্যক্ষ সাবিনা বিবি, বন ও ভূমি কর্মাধ্যক্ষ গণেশ পয়ড়্যা, কৃষি কর্মাধ্যক্ষ মনোরঞ্জন দাস প্রমুখ।মহতি পর্বে পৌরহিত্য করেন পটাশপুর ২ পঞ্চায়েত সমিতির কৃতী সভাপতি স্বপন কুমার মাইতি তিনি তার বক্তব্যে ব্লকের ক্রমবর্ধমান আর্লি ম্যারেজের প্রসঙ্গ তুলে উপস্থিত ছাত্রীদের ১৮ এবং ছাত্রদের ২১ বৎসরের আগে বিয়ে যে দন্ডনীয় অপরাধ সে বিষয়টি স্মরণ করিয়ে সকলকে সচেতন করান।ব্লকের বাগমারি নারী কল্যাণ, খাড় হাই, টিকরাপাড়া অম্বিকাময়ী, পঁচেটগড় হাই এবং মঙ্গলপুর জুনিয়ার হাই স্কুলের ছাত্র-ছাত্রী ও শিক্ষক-শিক্ষিকা উপস্থিত ছিলেন। সঞ্চালনায় মেলা কমিটির সম্পাদক গৌরী শংকর মহাপাত্র ও পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি। মঞ্চ সহযোগিতায় মেলা কমিটির সহ সম্পাদক তপন কুমার মন্ডল ও মানস কুমার মাইতি, কোষাধ্যক্ষ আশিস কুমার দাস, অধ্যাপক স্বপন কুমার মিশ্র, সত্যব্রত সাহু, আরতি মাইতি প্রমুখ।দ্বিতীয় পর্বে“বাংলা ভাষার বর্তমান ভবিষ্যৎ” শীর্ষক আলোচনায় পৌরহিত্য করেন মেলার কার্যকরী সভাপতি। বক্তব্য রাখেন পালপাড়া কলেজের অধ্যাপক ড. মৃণাল কান্তি দাস, এগরা সারদা শশিভূষণ ভূষণ কলেজের বাংলা ভাষার অধ্যাপক ড শান্তনু দলাই, এগরা কেন্দ্রিক দক্ষিণ মেদিনীপুর জেলা প্রস্তাবক কমিটির সভাপতি প্রখ্যাত শল্য চিকিৎসক ড বাদল অশ্রু ঘাটা প্রমুখ।তৃতীয় পর্ব “জন্মশতবর্ষে কবি সুকান্ত ভট্টাচার্য স্মরণে মননে”, শীর্ষক আলোচনায় সভাপতিত্ব করেন ড মৃনাল কান্তি দাস। বক্তব্য রাখেন বামনবার জুনিয়র হাই স্কুলের সহ-শিক্ষিকা ঈপ্সিতা মাইতি ও এগরা রামকৃষ্ণ শিক্ষা মন্দিরের সহশিক্ষক সৌভিক পন্ডা। মঞ্চ সহযোগিতায় পটাশপুর-২ ব্লকের কো-অর্ডিনেটর রাজকুমার মহাপাত্র। এরপর কাঁথির” দিগন্ত” সংস্থার পক্ষে বেলাল উদ্দিন ও সম্প্রদায় আবৃত্তির কোলাজ উপস্থাপন করে। সন্ধ্যায় ডা গৌতম মাইতি আবৃত্তি ।এগরা “স্বপ্ননীড়” সংস্থার নৃত্য ও সংগীত এবং” আশাবরী”র নৃত্যানুষ্ঠান হয়। সঞ্চালনায় মানস কুমার মাইতি, মঞ্চ সহযোগিতায় কবিতা প্রধান। এদিনে মেলার উপস্থিতি ও বই বিক্রি বিগত কয়েক দিনকে ছাপিয়ে যায়। এদিনের অনুষ্ঠান শেষে উপস্থিত সকলকে ধন্যবাদ জানান মেলা কমিটির সহ-সম্পাদক তপন কুমার মন্ডল।