গৌরীশংকর মহাপাত্র, দৈনিক আবেশভূমি,২৫ নভেম্বর:
দীর্ঘ আইনী লড়াই শেষে সব জল্পনার অবসান ঘটিয়ে দখল মুক্ত হলো এগরা পৌরসভার ৬ নং ওয়ার্ডের ত্রিকোণ পার্ক সংলগ্ন কাঁথি মেদিনীপুর রাস্তার সেই বিশ্রামাগার। মঙ্গলবার বিকালে সরকারি নির্দেশে পূর্তদপ্তরের পক্ষে বুলডোজার (জে সি বি) দিয়ে ভেঙে গুঁড়িয়ে দেয় বিশ্রামাগার টি। পৌর প্রধান ও লীজ গ্ৰহিতার দীর্ঘ কাছি টানাটানির ফলে ক্রমবর্ধমান অস্বাস্থ্যকর পরিস্থিতির অবসান ঘটল। এগরাবাসী স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলে পৌর কর্তৃপক্ষকে সাধুবাদ জানায়।প্রায় শতবর্ষ প্রাচীন এই বিশ্রামাগারটিতে পথচারীরা আশ্রয় নিত। দূর দূরান্তের লোকেরা এক সময়ে রাত্রি নিবাস করে বাস ধরত। স্থানীয় বালিকা বিদ্যালয় ও উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীরা গ্রীষ্মে রুদ্রের দাবদাহ এড়াতে আশ্রয় নিতো। এক সময় প্রাক্তন পৌর প্রধান শংকর বেরার অদূরদর্শী তার সুপারিশ মেনে জেলা পরিষদ বিশ্রামাগারটিকে লীজ দেয় এক রাজনৈতিক নেতার ছেলের নামে। পরিস্থিতির যাতাকলে স্থানীয় রাজনৈতিক দল, নাগরিক কমিটি, বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠন এর প্রতিবাদে সরব হয়, ডেপুটেশন দেয় পৌর প্রধান, ও প্রশাসনের সর্বস্তরে। মানুষের দাবি মেনে দখল মুক্ত করতে মাঠে নামে এগরার চেয়ারম্যান স্বপন কুমার নায়ক। স্বদলীয় কাউন্সিলরের ছেলেকে দখল মুক্ত করতে পৌরপ্রধানকে দল কাউন্সিলরের ট্রাঙ্গুলার ফাইটের মুখোমুখি হতে হয়। এগরা পৌরসভার ১২ নং ওয়ার্ডের বর্তমান কাউন্সিলর জয়ন্ত সাউর ছেলে সায়ন্ত সাউ লিজ নিয়ে ওখানে ‘হরিণঘাটা মিট সেন্টার’ নামে একটি দোকান চালাতেন। দীর্ঘদিন ধরে জনগণের ব্যবহৃত সর্ব সাধারণের প্রোপার্টি এভাবে ব্যক্তি স্বার্থে ব্যবহৃত হওয়ায় চেয়ারম্যান আইনি পদক্ষেপে বিশ্রামাগারটি দখলমুক্ত করার জন্য চেষ্টা করেন। পৌরবোর্ড ঐক্যমতে চেয়ারম্যানের পাশে দাঁড়ায়। শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। আদালতের নির্দেশের ফলেই PWD দীর্ঘ লড়াইয়ের পর আজ বিশ্রামাগারটি দখলমুক্ত করার চূড়ান্ত পদক্ষেপ নেয়। পূর্ত দফতরের পক্ষে টেন ওয়ান, টেন টু নোটিশ সার্ভ হওয়ার পর রাজনৈতিক পরস্থিতি পারিপার্শ্বিক কারণে জটিল হয়ে ওঠে। প্রায় প্রশাসনিক সূর্যাস্ত আইনে বদলি হয়ে যান এগরা মহকুমা শাসক মঞ্জীত কুমার যাদব। নতুন মহকুমা শাসক এসে দায়িত্ব ভার নেন।
কিছুদিন আগে কাউন্সিলর জয়ন্ত সাউ নিজে থেকেই বিশ্রামাগারটি ছেড়ে দেওয়ার কথা ঘোষণা করেছিলেন। যদিও জয়ন্ত বাবুর দাবী সম্পূর্ণ সরকারি নিয়ম মেনে এই জায়গা জেলা পরিষদের কাছ থেকে লিজ নিয়ে তার ছেলে ব্যবসা করছে।শেষ পর্যন্ত PWD-র দল জেসিবি (JCB) নিয়ে এসে ঘরটি ভেঙে মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দেয়। তবে দখলমুক্তির এই পদক্ষেপে এগরাবাসী অত্যন্ত আনন্দিত এবং তারা পৌর কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন। এখন এগরাবাসীর দৃষ্টি নতুন করে বিশ্রামাগার তৈরির দিকে। এলাকার মানুষ আশা করছেন, সেই স্থানে দ্রুত নতুন অত্যাধুনিক সুযোগ-সুবিধাযুক্ত একটি বিশ্রামাগার তৈরি করা হোক, যা এলাকার সাধারণ মানুষের কাজে লাগবে।
