গৌরীশংকর মহাপাত্র ও রাজকুমার মহাপাত্র, দৈনিক আবেশভূমি,১৫ ডিসেম্বর:পূর্ব প্রতিশ্রুতি মত সোমবার সাড়ম্বরে বালিঘাই জগন্নাথ জীউ সেবা সমিতির বৃদ্ধাশ্রমের শিলান্যাস হল সোমবার।এগরা-২ ব্লকের

    বিবেকানন্দ পঞ্চায়েতের সাহাপুর মৌজায় প্রায় আড়াই বিঘা দানকৃত জায়গার উপরেই বৃদ্ধাশ্রমের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপিত হয়। মাঙ্গলিক পূজার্চনা শেষে ঘট ও ইট স্থাপনের আনুষ্ঠানিক সূচনা করেন কলিয়াচক সংস্কৃত কলেজের প্রাক্তন অধ্যক্ষ ড দেবীপদ রথ’রা। উদ্বোধক আশিস
      ধাওয়া তার উদ্বোধনী বক্তব্যে রবীন্দ্রনাথের উক্তি উদ্ধৃতি করে বলেন-
      “আপনারে লয়ে বিব্রত রহিতে আসে নাই কেহ অবনী পরে/ সকলের তরে সকলে আমরা প্রত্যেকে আমরা পরের তরে।” পুষ্প আপনার জন্য ফোটে না পরের নিমিত্ত সে নিজেকে প্রস্ফটিত করে। যেমন ধূপ নিজে পুড়ে অপরকে সুবাস বিতরণ করে। আপনি পরের ভালোটা ভাবুন, আপনার ভালো যিনি ভাবার তিনি ভাববেন। সেবা সমিতি দীর্ঘ ৭ বছর বৃদ্ধাশ্রম এর প্রয়োজন মত জায়গার চেষ্টা চালিয়ে পায়নি। এখানে জমি পাওয়া বা বৃদ্ধাশ্রম করা সবটাই ঠাকুরের ইচ্ছা। আমি নিমিত্ত মাত্র। আমি আমি ধারণা অজ্ঞতার। আমরা ও আমাদের ধারনায় আমি বিশ্বাস করি।আমি এই পঞ্চায়েত এলাকার ছেলে আমার অতীত ও বর্তমান সকলের জানা। জগন্নাথ আমাকে দিয়ে এই কাজ করানোর চেষ্টা করেছেন। আপনারা সহযোগিতা করছেন, সহযোগিতা করে যান কাঙ্ক্ষিত সাফল্য পাবেন। আশ্রম হওয়ার কথা ছিল পটাশপুর-২ ব্লকের একটি জায়গায়। এখানকার বিধায়ক বললেন তাঁর বিধান সভা এলাকার ছোটরসুলপুরে তিনি জায়গা ব‍্যবস্থা করবেন। হল ছোটরসুলপুর পার্শ্ববর্তী সাহাপুর মৌজার এই জায়গায়। সমাজে বৃদ্ধ-বৃদ্ধা ও পিতৃ মাতৃহীন অনাথরা যেভাবে অবহেলিত ও পরিস্থিতির শিকার তাদের কথা ভেবে আমার এই বৃদ্ধাশ্রম ও অনাথ আশ্রম তৈরীর ভাবনা। এলাকার মানুষ প্রায় ৫০ লক্ষ টাকার জমিদান করেছেন। আমি চাই দ্রুত এর কাজ সম্পূর্ণ করে বৃদ্ধদের আশ্রয় দেওয়া শুরু করব। এখানে তাদের নিত্য চিকিৎসার জন্য ডাক্তার থাকবে রুটিন মেনে, থাকবে আই সি ইউ, ২৪ ঘন্টা এ্যাম্বুলেন্স পরিষেবা, সুপার স্পেশালিটির সঙ্গে থাকবে যোগাযোগ। বিনোদনের জন্য তৈরী হবে পার্ক, বিউটিফিকেশনের জন্য হবে অত‍্যাধুনিক বাগান, পূজার্চনার জন্য একটি মন্দির নির্মাণ হবে। পাশাপাশি একইসঙ্গে অনাথ আশ্রমের কাজ হবে এর জন্য পাশে আরো জায়গার প্রতিশ্রুতি পেয়েছি ।পূর্ণাঙ্গ আশ্রমিক কাজ শেষ করতে সময় লাগবে কিন্তু ছয় মাসের মধ্যে অন্তত ১২ টি রুমের কাজ শেষ করে চালু করা হবে। ভীত দেওয়া ভবনের দৈর্ঘ ১১৫ মিটার ও প্রস্থ ৬২ মিটার। তিনি আরও বলেন আমার ব্লকে একটিমাত্র বালিকা বিদ্যালয়, আমাদের স্বপ্ন একটি বালিকা বিদ্যাল স্থাপন কিন্তু এক জায়গায় প্রায় ছয় বিঘা জায়গা প্রয়োজন। জায়গা না পাওয়ায় এই অপূর্ণ স্বপ্ন তাড়া করছে। মৃত্যু পর্যন্ত চেষ্টা চালিয়ে যাব।অতিথির আসনে ছিলেন এগরা-২পঞ্চায়েত সমিতির সহ-সভাপতি সীতাংশু জানা, বিবেকানন্দ পঞ্চায়েত প্রধান
      মনীষা গুচ্ছাইত, উপপ্রধান চন্দন সীট, প্রাক্তন উপ প্রধান ধনঞ্জয় সিংহ,এগরা ২ পঞ্চায়েত সমিতির প্রাক্তন
        সভাপতি প্রকাশ রায়চৌধুরী, এগরা থানার আই সি অরুণ খান,রাজ্য জেলরক্ষী বাহিনীর প্রশিক্ষণ সেন্টারের কর্মী নিরূপম খাঁড়া, বাথুয়াড়ী হাই স্কুলের প্রাক্তন ভারপ্রাপ্ত শিক্ষক অহিভূষণ পাহাড়ী, সেবা সমিতির কার্যকরী সভাপতি আহীন্দ্র কুমার রায়, অন‍্যতম কর্মকর্তা সহেল ধাওয়া,কর্মকর্তা শিশির মাইতি,ভূমি দাতা লক্ষণ সিংহ, রাম সিংহ, সীতারাম দাস প্রমুখ।
        উপস্থিত সকলে তার উপার্জনের অর্জিত অর্থে এমন মহৎ কাজের জন্য উদ্বোধক শ্রী ধাওয়াকে ধন্যবাদ জানান। সভায় পৌরহিত‍্য করেন এলাকার বর্ষীয়ান সমাজ সেবী সত‍্যেন্দ্রনাথ হুজ্জাইৎ।সঞ্চালনায় সেবা সমিতির যুগ্ম সম্পাদক জন্মেঞ্জয় প্রধান ,বিরজাকান্ত প্রধান ও তপন কুমার মন্ডল। উদ্বোধনের পূর্বে ছোট রসুলপুর শনি
          মন্দির থেকে সানাই বাজিয়ে উলুধ্বনিসহ পুষ্পবৃষ্টিতে উদ্বোধক আশিস ধাওয়াকে স্বাগত জানান এলাকার মহিলা ব্রীগ্রেড। কার্যত উদ্বোধন ঘিরে কয়েকটি গ্রামের মানুষের মধ্যে উৎসবের আবহে হয় মহোৎসব ও।

            Share

            Leave a Reply

            Your email address will not be published. Required fields are marked *