গৌরীশঙ্কর মহাপাত্র ও রাজকুমার মহাপাত্র, দৈনিক আবেশভূমি, ৫ জানুয়ারী: এগরা পৌরসভার চেয়ারম্যান স্বপন কুমার নায়কের নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে এবার আন্দোলনে নামলেন এগরার নাগরিক সমাজ। রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের শিকার হয়ে তাঁকে জেলবন্দি করা হয়েছে এই অভিযোগে সোমবার বিকেলে শহরজুড়ে নাগরিক সমাজের ব‍্যানারে এক বিরাট প্রতিবাদ মিছিল এলাকা পরিক্রমা করে।বিকেলে এগরার দীঘা মোড় থেকে শুরু হওয়া এই মিছিলে পা মেলান কয়েক হাজার মানুষ। মিছিলে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় ব্যবসায়ী, বিভিন্ন সংগঠন, সাধারণ নাগরিক থেকে শুরু করে বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মী-সমর্থকেরাএগরা স্বর্ণময়ী গার্লস স্কুলের সামনে শহরের প্রধান রাস্তা পরিক্রমা করার সময় স্লোগানে স্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে গোটা এলাকা। এগরার রূপকার স্বপন নায়ক আমরা তোমার সঙ্গে আছি, স্বপন নায়কের মুক্তি চাই। বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, কোনও প্রমাণ ছাড়াই রাজনৈতিক চক্রান্ত করে চেয়ারম্যান স্বপন নায়ককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।শহর পরিক্রমা শেষে মিছিলটি এসে শেষ হয় এগরার ত্রিকোণ পার্কে। সেখানে আয়োজিত হয় একটি সংক্ষিপ্ত প্রতিবাদ সভা। সভায় বক্তারা“চেয়ারম্যান স্বপন নায়ক এগরার উন্নয়নের কাণ্ডারি বলে অভিহিত করেন। তাঁকে চক্রান্ত করে জেলে পাঠিয়ে শহরের স্বাভাবিক উন্নয়ন ও প্রশাসনিক কাজকর্ম ব্যাহত করা হচ্ছে।”বক্তারা আরও হুঁশিয়ারি দেন, অবিলম্বে এবং নিঃশর্তে স্বপন নায়ককে মুক্তি না দেওয়া হলে আগামী দিনে আরও বৃহত্তর আন্দোলনের ডাক দেওয়া হবে। সভাস্থলে জয়ন্ত সাউ-এর বিরুদ্ধে তীব্র স্লোগান তুলে“জয়ন্ত সাউ দূর হটাও”।বক্তব্যে অভিযোগ করা হয়, তৃণমূলেরই এক পক্ষ জননেতা স্বপন নায়কের জনপ্রিয়তাকে ক্ষুণ্ণ করতেই এই চক্রান্তে নেমেছে। ব্যক্তি স্বার্থে শাসকদলের এক অংশ দলকে ব্যবহার করে স্বপন নায়েককে জেলবন্দি করেছে। পঞ্চাতোর্ধ জননেতাকে শীতের দিনে অমানবিকভাবে আটক করে চোর ডাকাত অপরাধীদের সঙ্গে রাখায় অনুগামী ও শুভানুধ্যায়ীরা  প্রতিবাদ মিছিলে ক্ষোভে সাংবাদিকদের ক্যামেরার সামনে উগরে দেন।রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের পাশাপাশি বিদ্যজ্জ্বন ও সাংস্কৃতিক সংগঠন গুলির একটি অংশ যেভাবে এই মিছিলে অংশ নিয়েছে তা শাসকদলের কপালের ভাঁজকে যে দীর্ঘ করছে। বিশেষ করে গ্রামীণ মেলা চলাকালীন এই বিক্ষোভ মিছিল আলাদা একটি মাত্রা যোগ করে। মেলামুখি একশ্রেণীর বক্তব্য এই সময় শাসক দলের এ পদক্ষেপ কেন? কারুর বক্তব্য বিরোধী দলনেতার এলাকায় এমন পদক্ষেপ নিতে গেলে যে ঠান্ডা মাথায় করা উচিত ছিল তা না করে বড্ড বাড়াবাড়ি করে ফেলল শাসকদল।ইলেকশনের আগে এমন পদক্ষেপ কি খুব দরকার ছিল? তবে এর পরিনতি কোথায় দিয়ে দাঁড়ায় সেটাই দেখার। এ দিকে চেয়ারম্যানের মুক্তি না হওয়া পর্যন্ত এই আন্দোলন চলবে বলে সাফ জানিয়ে দেন নাগরিক কমিটির সদস্যরা।এই প্রতিবাদ মিছিলের জেরে বিকেলে এগরা–দীঘা সড়ক ও সংলগ্ন এলাকায় দীর্ঘক্ষণ যানজট সৃষ্টি হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এলাকায় মোতায়েন করা হয় বিশাল পুলিশ বাহিনী। বিশৃঙ্খলা এড়াতে এগরা থানার সামনের গেট বন্ধ করে পুলিশ মোতায়েন করা হয়।

    Share

    Leave a Reply

    Your email address will not be published. Required fields are marked *