প্রদীপ কুমার মাইতি, মেদিনীপুর : বেলা দশ’টা থেকে পশ্চিম মেদিনীপুরের ঘাটাল লোকসভার অন্তর্গত আনন্দপুর এলাকায় প্রচারে বেরিয়েছিলেন বিজেপি প্রার্থী ভারতী ঘোষ।আনন্দপুর থানার অন্তর্গত পাঁচখুরি, বুড়াপাট এলাকায় প্রচারে উপস্থিত হতেই দেখতে পান স্থানীয় এলাকায় সমস্ত দোকান বাজার বন্ধ। তিনি খবর নিয়ে জানতে পারেন বিজেপি প্রার্থীর প্রচার এর খবর জানতে পেরে শাসক দলের লোকজন হুঁশিয়ারি দিয়ে সমস্ত দোকান বন্ধ করে দিয়েছে। বাজারে ইতিউতি দাঁড়িয়ে রয়েছে গুটিকয়েক পুলিশকর্মী।

 

তাদের দেখেই মেজাজ গরম হয়ে যায় ভারতী ঘোষের। সামনে পাওয়া পুলিশকর্মীদের বলেন, “সমস্ত দোকানপাট বন্ধ করে আমার নিরাপত্তা দিতে হবে না। আপনারা সরে যান।কাউকে না দেখতে পাই এখানে। এরপরই আনন্দপুর থানার ওসি সুবীর মাঝি কে দেখতে পেয়ে ক্ষোভ উগরে দেন। তাকে বলেন, ” আপনারা থাকতেও দোকান বন্ধ, জল বন্ধ, তাই আপনাদের এখানে থেকে লাভ কি? এখান থেকে চলে যান না হলে সমস্যা হবে ৷ দ্রুত দোকানপাট খোলান। তৃণমূলের হয়ে কাজ করছেন সকলে। বাড়ি চলে যান এখান থেকে সকলে।” এরপরে তিনি সেখান থেকে সোজা আনন্দপুর থানার সামনে এসে অবস্থান বিক্ষোভ শুরু করেন। বেলা সাড়ে ১২ টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত থানার সামনে কর্মীদের নিয়ে বিক্ষোভ দেখান তিনি। ভারতী ঘোষ সংবাদমাধ্যমের সামনে বলেন, “আমাদের এখানে প্রচার রয়েছে জানতে পেরেই তৃণমূলের গুন্ডা বাহিনী প্রতিটা দোকানদারকে ভয় দেখিয়ে, আনন্দপুর এর পুরো বাজার বন্ধ করে দিয়েছে। বাড়ির লোকেদের ভেতরে ঢুকতে বাধ্য করেছে। এলাকার জল পর্যন্ত বন্ধ করে দিয়েছে, যাতে বিজেপি কর্মীরা প্রচারে এসে জল পর্যন্ত না খেতে পায়। আনন্দপুর থানার ওসি নিজে দাঁড়িয়ে থেকে এগুলো করিয়েছেন। উনি গত কয়েকদিন ধরেই সিভিক ভলেন্টিয়ার পাঠিয়ে পাঠিয়ে বিজেপি কর্মীদের বাড়িতে হুমকি দিচ্ছেন। আমি নির্বাচন কমিশন কে জানাচ্ছি যে, ওসি আনন্দপুর, কেশপুর এবং এসপি পশ্চিম মেদিনীপুর কে এখনই সরানো হোক সুষ্ঠু এবং অবাধ নির্বাচনের স্বার্থে।” তবে গত কয়েকদিন আগেও ভারতী ঘোষ কেশপুরে প্রচারে উপস্থিত হয়ে দেখেন একই ভাবে দোকান বাজার সব বন্ধ করা হয়েছিল।

 

সোমবার আনন্দপুর এর ঘটনা নিয়ে তৃণমূলের জেলা সভাপতি অজিত মাইতি বলেন, “এসব ভুলভাল অভিযোগ, ওই সমস্ত এলাকায় আমাদের এই ভাবে ভোট করাতে হবে না। মানুষ কে কি রকম চেনেন, তাই নিজেরাই হয়তো সরে গিয়েছেন।” এদিন বিক্ষোভের সময় এক যুবক ভারতী ঘোষকে দেখে কটুক্তি করতেই তাকে মারধর করে বিজেপি কর্মীরা ৷ পরে পুলিশ তাকে উদ্ধার করে।

Share

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *