গৌরীশংকর মহাপাত্র :দৈনিক আবেশভূমি: মেদিনীপুর পূর্ব পশ্চিম ও ঝাড়গ্ৰাম।পঞ্চায়েত ভোটের দিনক্ষণ যত এগিয়ে আসছে, তত পারদ চড়ছে বাংলার রাজনীতিতে। আর এরই মধ্যে একটু একটু করে সলতে পাকাতে শুরু করেছে লোকসভা নির্বাচনেরও । পঞ্চায়েতের ময়দান বাংলার জন্য একপ্রকার লোকসভার অ্যাসিড টেস্ট বলেই মনে করছে অনেকে। কারণ মাঝে বাংলায় আর কোনও বড় নির্বাচন নেই । সিউড়ির সভা থেকে বাংলায় লোকসভার বাদ্যি বাজিয়ে গিয়েছিলেন অমিত শাহ। বঙ্গ বিজেপির জন্য ৩৫ আসনের লক্ষ্যমাত্রা বেঁধে দিয়েছেন। একধাপ এগিয়ে বিধানসভার বিরোধী দলনেতার টার্গেট ৩৫ ছাপিয়ে ৩৬ আসন।বাংলায় ৪২টি লোকসভা আসন।

    ২০১৯ সালে লোকসভা ভোটের আগে তৃণমূল নেতাদের মুখে ‘৪২-এ ৪২’টি আসন জেতার কথা শোনা গিয়েছিল। কিন্তু ‘মোদী ম্যাজিকে’ ভর করে বাংলায় উল্কাগতিতে আসন বাড়িয়েছিল পদ্মশিবির। ১৮ টি আসন ছিনিয়ে নিয়েছিল। আর এবার শুভেন্দুর হুঙ্কার, ‘আমরা ১৮-কে ৩৬ করব।’ আর এই টার্গেট পূরণ হলে, তিন মাসের মধ্যেই বাংলায় সরকারকে ‘বিদায়’ জানানো হবে বলেও প্রত্যয়ী বিরোধী দলনেতা।কেন্দ্রের ক্ষমতা থেকে বিজেপিকে হটাতে বিরোধীরা এককাট্টা হয়ে রণকৌশল তৈরি করছে।কেন্দ্রের বিজেপি সরকারের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে জাতীয় রাজনীতিতে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মুখ মমতা। বাংলার শাসক শিবির থেকে বলা হচ্ছে, পঞ্চায়েতের আসর নাকি সেমিফাইনাল। আর ফাইনাল হবে আগামী বছরের লোকসভায়। কিন্তু বিরোধী দলনেতার বক্তব‍্য পঞ্চায়েত হল কোয়ার্টার ফাইনাল। লোকসভায় হবে সেমিফাইনালের লড়াই। তাহলে কি ফাইনাল পরের বিধানসভায়? সেই ইঙ্গিতই কি দিয়ে রাখলেন শুভেন্দু?ভোট আবহে কোনও পদক্ষেপ নয়, নন্দীগ্রামে বিজেপি প্রার্থীদের রক্ষাকবচ দিল আদালত।বিরোধী দলনেতা টার্গেট পূরণের পর যে তিন মাসের কথা বলছেন, অনেকটা একই ধরনের কথা শোনা গিয়েছিল সিউড়ির শাহী সভা থেকেও। ৩৫ আসনের টার্গেট দিয়ে বঙ্গ বিজেপিকে আশ্বস্ত করেছিলেন, ২০২৫ সালের আগেই তৃণমূল সরকারের ‘কা-ডা-রা-রা ফুসস…’ হয়ে যাবে। উল্লেখ্য, বাংলায় পরবর্তী বিধানসভা নির্বাচন হওয়ার কথা ২০২৬ সালে।এদিকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের গত কয়েকদিনের পঞ্চায়েতের প্রচারে লোকসভা ভোটের প্রসঙ্গ উঠে এসেছে। কখনও বলেছেন, ‘মোদী আজ আছেন, কাল চলে যাবেন।’ আবার কখনও বলেছেন, কেন্দ্রের ক্ষমতায় বিজেপির মেয়াদ আর ৬ মাসের। ডবল ইঞ্জিন নিয়েই খোঁচা দিয়েছেন মমতা। বলেছেন, ডবল ইঞ্জিনের একটা ফুটো হবে পঞ্চায়েতে এবং অন্যটি ফুটো হবে লোকসভায়। সব মিলিয়ে পঞ্চায়েতের ময়দানেও বার বার ঘুরে ফিরে চলে আসছে আসন্ন লোকসভার লড়াই।যদিও শুভেন্দুর এই ৩৬ আসনের দাবিকে কটাক্ষ করতে ছাড়ছেন না তৃণমূলের রাজ্য সম্পাদক তথা দলীয় মুখপাত্র কুণাল ঘোষ। পাল্টা খোঁচা দিয়ে কুণালের বক্তব্য, ‘উনি ভুয়ো জ্যোতিষী, ওঁর তারিখ মেলে না।’ ৩৬ আসনের যে দাবি করা হচ্ছে, তা নিয়ে কটাক্ষের সুরে কুণালের পাল্টা দাবি, বিজেপি আগে লোকসভায় চারটে আসন পেয়ে দেখাক।

      Share

      Leave a Reply

      Your email address will not be published. Required fields are marked *