গৌরীশঙ্কর মহাপাত্র, দৈনিক আবেশভূমি,২৫ ফেব্রুয়ারি:দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে দাঁতন ২ ব্লকের সাবড়া ধনেশ্বরপুর প্রাথমিক স্বাস্থ্য কেন্দ্র আজ নতুন রূপে, নতুন স্বপ্ন নিয়ে আধুনিক স্বাস্থ্য ব্যবস্থার পথে এক বিশাল পদক্ষেপ ফেলল। বহু বছর ধরে এলাকার মানুষ অপেক্ষায় ছিলেন একটি সুসজ্জিত, উন্নত এবং নির্ভরযোগ্য স্বাস্থ্য কেন্দ্র অবশেষে সেই স্বপ্ন বাস্তব রূপ পেল।দীর্ঘদিনের জমি জট, অবশেষে সমাধান।মেদিনীপুরের রাজাবাজারের বাসিন্দা অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মী রবীন্দ্রনাথ পাত্র এবং তাঁর দিদি অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষিকা শ্যামলী সাহা তাঁদের প্রয়াত পিতা বরেন্দ্রনাথ পাত্রের মালিকানাধীন জমিটি নিঃস্বার্থে রাজ্য সরকারকে দান করেন। তাঁদের এই সামাজিক দায়বদ্ধতার পরিচয় শুধু এলাকার উন্নয়নে নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের স্বাস্থ্য নিরাপত্তায়ও বড় ভূমিকা রাখবে‌।তৎকালীন জনস্বাস্থ্য কারিগরি বিভাগের কর্মাধ্যক্ষ শেখ ইফতেখার আলি-র ধারাবাহিক চেষ্টা, প্রশাসনিক উদ্যোগজ বহু বছরের জটিলতা দূর করে জমিটি স্বাস্থ্য দফতরের অধীনে আনা হয়, যা এই প্রকল্পের মূল ভিত্তি।৮৭ লক্ষ টাকা ব‍্যায়ে স্বাস্থ্য কেন্দ্র আজ দাঁড়িয়েছে একেবারে নতুন চেহারায়, যা আশেপাশের বহু গ্রামের মানুষের জন্য আশীর্বাদস্বরূপ।ভার্চুয়ালি উদ্বোধন করলেন মুখ্যমন্ত্রী।নতুন স্বাস্থ্য কেন্দ্রটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ভার্চুয়াল উদ্বোধনের সময়ে তিনি জানান, বাংলার প্রত্যন্ত এলাকাগুলিতে আধুনিক স্বাস্থ্য পরিষেবা পৌঁছে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি নিয়ে সরকার কাজ করে চলেছে।উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় বিধায়ক বিক্রম চন্দ্র প্রধান, বিডিও অভিরূপ ভট্টাচার্য, পঞ্চায়েত সমিতির কর্মাধ্যক্ষ শেখ ইফতেখার আলি, ব্লক স্বাস্থ্য আধিকারিক অংকুর দাস, সাবড়া গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান মীর সুরাজ- সহ বহু গণ্যমান্য ব্যক্তি।স্থানীয় মানুষের জন্য ‘জীবনরক্ষক’ ভূমিকা পালন করবে এই কেন্দ্রবিডিও অভিরূপ ভট্টাচার্য জানান, জমি সংক্রান্ত সমস্যার কারণে এতদিন স্বাস্থ্য কেন্দ্রটি অচল অবস্থায় ছিল। ফলে দাঁতন ২ ব্লকের বহু মানুষকে সামান্য অসুখেও দূরে যাতায়াত করতে হতো। দাঁতন ২ ব্লকের বহু গ্রাম বিশেষ করে সাবড়া, ধনেশ্বরপুর, তারাফেনি নদী সংলগ্ন এলাকা এবং আশেপাশের গ্রামের মানুষের ভরসা এখন এই নতুন স্বাস্থ্য কেন্দ্র। বহু মানুষের মতে, এটি শুধু একটি হাসপাতাল নয় এটি তাঁদের বহু বছরের সংগ্রামের জয় এবং ভবিষ্যতের নিরাপত্তার প্রতীক।সংক্ষেপে সামাজিক দায়বদ্ধতা, সরকারি উদ্যোগ এবং প্রশাসনিক তৎপরতাৎএই তিনের সমন্বয়েই একদা পরিত্যক্ত প্রাথমিক স্বাস্থ্য কেন্দ্র আজ দাঁড়িয়ে আছে আধুনিক চিকিৎসা ব্যবস্থার এক উল্লেখযোগ্য নিদর্শন হিসেবে।এটি শুধু একটি পরিকাঠামো নয়, বরং হাজারো মানুষের সুস্থ জীবনের স্বপ্ন পূরণের দ্বার।

Share

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *